কারাগার পার্ট ১ (২০২২) - Karagar Part 1 2022 | Chanchal Chowdhury | Tasnia Farin | Hoichoi

Please wait 10 seconds...
Scroll Down & Click Get Link
Congrats! Link is Generated

 Highly Recommended....

আমাদের দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির জন্যে থ্রিলার ও মিস্ট্রি ঘরানার এমন সিরিজ একটি ফুলের মতো সুন্দর ❤

কারাগার  পার্ট ১ (২০২২)  - Karagar Part 1 2022


🎬 কারাগার - পার্ট ১ (২০২২)

®️ ⭐⭐⭐⭐ ½

◼️ ভালো কিছুকে ভালো বলতে হবে অবশ্যই। দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির শ্রেষ্ঠ ওয়েব সিরিজের তালিকা করলে কারাগার সেরা জায়গাটাই দখল করার যোগ্যতা রাখে। এই সিরিজের সবথেকে সুন্দর দিক হচ্ছে ভিন্ন ধাঁচের কনসেপ্ট। বাইরের ইন্ডাস্ট্রির মুভি দেখতে দেখতে আমাদের চাহিদা এতো বেশিই হয়েছে যে দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি'র দ্বারা তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এমন সিরিজ যদি আমাদের মনে জায়গা করে নিতে না পারে, তাহলে আমাদের চাহিদা পূরণ করতে দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির হয়তো আরও বহুবছর লেগে যাবে।

✅ স্পয়লার ফ্রি ✅

◼️ সদ্য পুলিশে যোগদান করা পুলিশ কর্মকর্তা আকাশনগর কারাগারে কয়েদি গুনলেন ৩২৬ জন। অথচ সেই কারাগারে কয়েদি আছেন মাত্র ৩২৫ জন। এ নিয়ে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা বাজি ধরলেন সেই নতুন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে। অদ্ভুত ব্যাপারটা ঘটলো তখনই। অন্যদিকে সেই কারাগারের ১৪৫ নাম্বার সেল ৫০ বছর যাবৎ ধরে বন্ধ হয়ে আছে।সে বন্ধ সেল এ উদয় হয় এক অজানা,অচেনা রহস্যময় এক কয়েদির। কারাগারে এমন অদ্ভুত কয়েদি আসলো কিভাবে? কেনোই বা সেই কয়েদি এখানে? ১৪৫ নাম্বার সেল এ কোন রহস্য লুকিয়ে আছে?  

◼️ এখান থেকেই গল্পের শুরু! এই অদ্ভুত কয়েদিকে ঘিরেই এই কারাগারের গল্প। সম্পূর্ণ ভিন্ন কনসেপ্ট নিয়ে জাগ্রত হয়েছে কারাগার। থমথমে সাবলীল বিজিএম, অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি, কস্টিউম প্যাকেজ এবং সবার অভিনব অভিনয়ের কারনে এই সিরিজ দেখার সময় অন্যরকম একটা ভাইব পাবেন আপনি। মনেই হবেনা যে দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির কোন সিরিজ দেখছেন। প্রথম সিজনের গল্প হজম করার পর মনে হচ্ছে দ্বিতীয় সিজনে বড়সড় ধামাকা থাকছে দর্শকদের জন্যে।

◼️ যাইহোক, সমালোচনা করার ইচ্ছা থাকলে একটা ভালো সিনেমারও খুঁত বের করা যায়। যারা স্লো বার্নিং টাইপ মুভি সিরিজ পছন্দ করেন না তারা হয়তো একটু হতাশ হতে পারেন। সব মিলিয়ে কারাগার কমপ্লিট একটি মিস্ট্রির প্যাকেজ ❤

☢️ জনরা :- থ্রিলার / ফ্যান্টাসি / মিস্ট্রি

🆔 আইএমডিবি :- ৮.৭ / ১০ (৪৪৫টি ভোট)

➡️ এপিসোড :- ৭ টি।

⏰ রানটাইম :- ৩০ - ৩৫ মিনিট।

✋ প্ল্যাটফর্ম :- হইচই।


কারাগার পার্ট -১ 

একজন চঞ্চল চৌধুরী সাথে একটি ভালো গল্প দর্শকদের সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

Chanchal Chowdhury 'র আরো একটি প্রসংশনীয় কাজ। নিঃসন্দেহে সেরা বাংলা ওয়েব সিরিজের তালিকায় থাকবে। দেখার পর থেকে পার্ট-২ এর অপেক্ষায় আছি।

Read: The Notebook (2004)

 হালকা স্পয়লার* 

৫০ বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা সেল, যেখানে কোন কয়েদিকে রাখা হলে সকালে তার লাশ পাওয়া যেত। সেই সেলের ভেতর হঠাৎ করে একজন কয়েদির আগমন,যে কথা বলতে জানে না বোবা।যে নাকি বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের খুনী ছিলেন, সে খুনের দ্বায়ে ২৫০ বছর ধরে জেলে তিনি। কিন্তু কীভাবে সম্ভব? আদৌ কি এ যুগে এসে ২৫০ বছর ধরে কারো বেঁচে থাকা সম্ভব? আর হলেও কীভাবে তিনি এ জেলে ঢুকলেন? এ সব কিছু জানতে হলে আপনাকে দেখে নিতে হবে "কারাগার পার্ট -১" 

অবশ্যই লাস্টে টুইস্ট আছে। সবগুলো প্রশ্নের সমাধান পেতে হয়ত পার্ট-২ এর অপেক্ষা করতে হবে। 

পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০ 

অভিনয় সবার যথেষ্ট ভালো ছিল, তবে গল্প কিছুটা স্লো মনে হইছে।

 হেপি ওয়াচিং❤️

ভুল ত্রুুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, জীবনের প্রথReview no. 05

KARAGAR Part-1 (2022)

🔲 Genre: Fantasy, Mystery

🔲 Cast: Chanchal Chowdhury, Intekhab Dinar, Tasnia Farin, NS Nayeem, Afzal Hossain, Azad Setu, Ronny n many more

🔲 Directed by Sayed Ahmed Shawki

🔲 Episode Guide : 7

🔲 Platform : Hoichoi

🔲 IMDb : 8.7/10

🔲 Mine : 9/10

No Spoiler 🚫

কারাগার  পার্ট ১ (২০২২)  - Karagar Part 1 2022 | Chanchal Chowdhury Tasnia Farin | Hoichoi


আমাদের এপার বাংলায় থ্রিলার বাদ দিয়ে শুধু মিস্ট্রি-ড্রামা নিয়ে আগে কখনও কেও সিরিজ বানায় নি। একটা মাত্র সাদা-মাটা কন্টেন্ট ছিলো (মুখোশ)

কিন্তু কারাগার পার্ট - ১ ছিলো সবকিছুর এক অনন্য মিশ্রণ এবং এখন পর্যন্ত এটা নিঃসন্দেহে এপার বাংলার সেরা কাজ, সেটা হলফ করে বলতে পারি।

⭕ Plot : সেটা আমরা কমবেশি সবাই জানি যে একটা জেল খানায় সেল রয়েছে ১৪৪ টা, নিত্যদিনের মতোই কয়েদি কাউন্ট করতে গিয়ে একজন কয়েদি বেশি পাওয়া যায় তাও আবার এমন এক সেলে যেটা গত ৫০ বছর ধরে বন্ধ। 

এখন কে এই লোক? কি তার পরিচয়, কীভাবে ঢুকলো ওই গত ৫০ বছর ধরে বন্ধ হয়ে থাকা সেলটি তে? এই সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে আপনাকে হইচই এ গিয়ে সিরিজ টি দেখতে হবে।

⭕ Acting : এই সিরিজের অন্যতম ভালো একটা দিক হচ্ছে যে এখানে প্রতিটি চরিত্র কে ইম্পর্টেন্স দেওয়া হয়েছে। থাম্বনেলে চঞ্চল চৌধুরী আছেন বলে যে শুধু তার স্ক্রীনপ্লে বেশি থাকবে, এমন টা ছিলো না।

এবার আসি অভিনয়ের দিকে। চঞ্চল চৌধুরী কে দিয়েই শুরু করি, আপনারা অনেকেই বলেছেন যে এখন পর্যন্ত কারাগার তার বেস্ট কাজ (অনেক রিভিউ তেই দেখেছি) কিন্তু আমি বলবো না। এটা তার বেস্ট কাজ/বেস্ট পারফর্মেন্স ছিলো না, তিনি যে বেস্ট সেটা আরও অনেক আগেই প্রুফ করেছিলেন। তাই আপনাদের কাছে ওনার ভিন্ন কিছুর সংযোজন কে মনে হয় বেস্ট। তিনি এমন একজন অভিনেতা যে উনাকে আপনি যতই কোনো চ্যালেঞ্জিং ক্যারেক্টর দেন না কেন, উনি সেটা কোনো দ্বিধা ছাড়াই আপনাকে প্লে করে দেখাবে। হয়তো এখানেই আছে কোনো অভিনেতার জাত-স্বার্থকতা। 

তবে এই না যে এটা তার এ্যাভারেজ কাজ, অবশ্যই এটা তার অনেক ভালো কাজ। তার চরিত্রের এক্সপ্রেশন, লুক এগুলো ছিলো একদম টপ-নচ! সাথে তার বোবাকালা'র অভিনয় ও অনেক অনেক প্রশংসার দাবি রাখে।

জেলার মোস্তাকের চরিত্রে রয়েছেন ইন্তেখাব দিনার। তার চরিত্র টা অনেক প্রমিজিং ছিলো, প্রতিটি ডায়লগ এতো সুন্দর করে তিনি ডেলিভারি দিয়েছেন! তার রাগ, ভয়, দুশ্চিন্তা আবার ভুল স্বীকৃতি একেক সময় একেক প্যাটার্ন খুব ভালো লেগেছে দেখতে। 

তাসনিয়া ফারিণ ও দুর্দান্ত ছিলেন, এফ এস নাইম কে অনেক দিন পরে দেখলাম। তিনিও তার জায়গায় যথেষ্ট ভালো করেছেন। আফজাল হোসেনর সুরমা পরা চোখের লুক দেখলে আসলেই একটু শরীর কাটা দিয়ে উঠেছিলো, যতক্ষণ স্ক্রীনে ছিলেন- বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। সাপোর্টিং কাস্টগুলোও অনেক ভালো ছিলো। শতাব্দী ওয়াদুদ এর গ্লিম্পজ ও বেশ প্রমিজিং ছিলো, হয়তো এটার পার্ট ২ তে তাকে আরও ইন ডিটেইল এ আমরা দেখতে পারবো।

আর একজনের কথা একটু বলিই, একটা কয়েদি আছে হ্যাংলা, কালো করে ইয়ং টাইপ। ওই ছেলেটার চরিত্র টা একদম ফানি ছিলো, ভলিবল খেলার সময় যখন তার সাথের সিনিয়র ভাষণ দেয় তখন ছেলেটার দিকে একবার তাকায়েন- ওর করা রিপিটেড সিনগুলো দেখে আপনি হাসতে বাধ্য 😆

⭕ Observation : সিরিজ টার সিনেমাটোগ্রাফি, কালার গ্রেডিং, এডিটিং, ডাবিং, ডিরেকশনে অনেক খোঁজার পরেও কোথাও কোন ভুল পেলাম নাহ- হয়তো তার (ডিরেক্টরের) কাজের প্রতি একটা ভালোবাসা আছে বলেই আমার চোখে পরেনি।

⭕ Personal Opinion : শউকি ভাইয়ের সর্বপ্রথম মেগাহিট সিরিজ ছিলো তাকব্দীর (২০২০) তার অন্যতম ভালো কিন্তু আন্ডাররেটেড আরেক টা কাজ হচ্ছে ঊনলৌকিক (২০২১) এবং ওই দুটোই আমার অনেক প্রিয় ছিলো। সো, প্রিয় উদীয়মান ডিরেক্টরের কাজ একবুক আশা নিয়ে দেখতে বসেছিলাম কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি একদম ই আশাহত হইনি। 

এই সিরিজ টায় প্রায় প্রতিটা ক্যারেক্টর এর মধ্যে সাস্পেন্স রয়েছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক অ্যাঙ্গেজিং থাকবেন আর শেষে যে এমন একটা টুইস্ট রাখবেন তিনি এটা কেও হয়তো ভাবতেই পারেনি। আমি লাস্ট ৫ মিনিটে শুধু থ হয়ে বসেছিলাম, আরেহ ভাই এটা কি হইলো? পুরো আপনাকে গাধা বানিয়ে দিবে শেষ টাহ।

শেষে একটা জিনিস, মেইনস্ট্রিমে অনেক প্রশ্ন ই তো রয়েছে কিন্তু তন্মধ্যে একটি সাইড কুয়েশ্চন রয়েছে, "পুরো সিরিজে একটা বোরকা পড়া মহিলা কে দেখতে পাবেন কিন্তু তার সাথে কার কি সম্পর্ক? কে সে?" মেইনস্ট্রিম কুয়েশ্চন এর পাশাপাশি আপনাকে এগুলোও অনেক ভাবাবে।

আপনারা যারা এখনও এই ডিরেক্টরের কোনো কাজ দেখেন নি, তাহলে প্লিজ গো & ওয়াচ অল অফ দোজ। স্পেশালি কারাগার টা হাইলি রেকমেন্ড করছিকারাগারে ঢুকে বের হওয়ার সুযোগ নেই! প্রশ্নের সাগরে ভাসিয়ে দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষার মধ্যে ডুবিয়ে দিলো!

Read :  Liger (2022)

📣📢(হালকা স্পয়লার থাকতে পারে)📢📣

সাধারণত ট্রেলারে কিছু প্রশ্ন দর্শকের চিন্তার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়, দর্শক সেই উত্তর খোজার জন্য সিরিজ বা মুভিটি দেখে। কিন্তু ট্রেলারের প্রশ্নগুলোর উত্তর তো দূরে থাক ট্রেলারে প্রশ্নগুলোকে যেন তিন ঘন্টা ধরে বহুগুণ জটিল করে তুলেছেন শাওকিরা। 

প্রথম সিজনের উত্তরগুলো দ্বিতীয় সিজনে দেওয়ার পরে 'কারাগার' বাংলা ওয়েব সিরিজের অন্যতম সেরা সিরিজ হয়ে উঠবে। ৭ পর্বের সিরিজ শেষ করে ঐ পর্যায়ে দাড়িয়ে 'কারাগার' সম্পর্কে রিভিউ লেখা সম্ভব না বা জাজ করা যৌক্তিক না। কারণ ট্রেলার যতটা না প্রশ্ন দর্শকের সামনে ছুড়ে দিয়েছিলো তার চেয়ে বহুগুণ প্রশ্ন সৃষ্টি হবে প্রথম সিজন দেখার পরে। অর্থাৎ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বিপরীতে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিলো 'কারাগার'। অবশ্য নির্মাতা, রাইটার এবং সিরিজ সংশ্লিষ্ঠরা এসব কথা চিন্তা করেই নাম দিয়েছে 'কারাগার -পার্ট ১'। যতটুকু প্রশ্ন - উত্তরের লুকচুরি হলো সে সম্পর্কে এবং সবার অভিনয় ও নির্মান কেমন ছিলো সে সম্পর্কে হালকা কিছু বলা যাক।

মানুষের অন্ধবিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা ও কুসংস্কারকে বেশ সুন্দর ভাবে ক্রিটিসাইজ করে প্রথম সিজন শেষ করলো নির্মাতা। 

প্রথম থেকেই নির্বাক চঞ্চল চৌধুরী শুধু চোখ, হাত ও এক্সপ্রেশন দিয়েই সিরিজটা শেষ করেছে। সে মীর জাফরের খুনি! কিন্তু ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের বিশ্বাসঘাতক সেই মীর জাফরের খুনি দাবি করা এই কয়েদি কে? আর সে এতোদিন বেঁচে থাকে কিভাবে? সে আকাশনগর জেলের ৫০ বছর বন্ধ থাকা সেলে কিভাবে আসলো? কেন আসলো? প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য বসলেও পাওয়া যাবে না উত্তর। চঞ্চল চৌধুরীর এক্সপ্রেশন সম্পূর্ণ পার্ফেক্ট। লিজেন্ডারি অভিনয় মুগ্ধ করবে যে কোন দর্শককে। সাংকেতিক ভাষা সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকলে তার সাথে ফারিণের কথোপকথন সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা সমীচীন না।  

গল্পের এ পর্যন্ত ইন্তেখাব দিনারের চরিত্রটার প্রতি সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। 'কারাগার'এর জেলার হয়েও কারাগারের সাথে আছে তার অন্যরকম এক সম্পর্ক। বেশ ভালো ভাবে চরিত্রটা বিল্ড আপ করা হচ্ছে বা হয়েছে। ইন্তেখাব দিনারের পাশে একে আজাদ সেতু উজ্জল তারকার মতো জ্বলজ্বল করেছে এই সিরিজে। 

তাসনিয়া ফারিণ ও এফ এস নাইমের চরিত্রগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পূর্ণ না দেখানো হলেও চরিত্র দুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছে। বাকি চরিত্রগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড দেখানো হয়নি। ছোট ছোট চরিত্রগুলোর পেছনেও আছে ঘটনা। সেগুলো হয়তো আগামী পর্বে এক এক করে প্রকাশ করবে নির্মাতা। 'কারাগার'এর কালার, বিজিএম, কস্টিউম চোখ ধাঁধানো এবং বিভৎস বলা যায়। 

সব মিলিয়ে প্রথম সিজন দুর্দান্ত, হাইপ থাকতে, দর্শক প্রথম সিজনের কাহিনী ভুলতে বসার আগে দ্বিতীয় সিজন রিলিজ দেওয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আশা করবো খুব দ্রুত 'কারাগাকারাগার ( স্পয়লার বিহীন রিভিউ ) 

কারাগার: ওটিটিতে বাংলাদেশের সেরা সিরিজ! 

আমাদের দেশে ওটিটির আগমন আর 'তাকদীর' সিরিজটির সফলতা যেন একসূত্রে গাঁথা। সৈয়দ আহমেদ শাওকীর 'তাকদীর' এর সফলতার দরুন ওটিটিতে পরিচালক ও কলাকুশলীদের আগ্রহ বেড়েছে, দর্শকের কাছে আস্থার এক নতুন মাধ্যম বিবেচিত হয়েছে ওটিটি প্লাটফর্ম গুলো! তবে, হাতেগোনা কয়েকজন পরিচালক সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছেন আর শাওকী সেই লিস্টের প্রথমেই থাকবেন। প্রথম সিরিজ থ্রিলার আর দ্বিতীয় সিরিজটা মিস্ট্রি ড্রামা জনরার! 

'কারাগার' সিরিজের গল্প এগিয়েছে, কারাগারে একরাতে কয়েদি গোনার সময় প্রায় ৫০ বছর ধরে বন্ধ এক সেলে হঠাৎ করে এক রহস্যমানব কে পাওয়া যায়! কানে শুনেন না ও কথা বলতে পারেন না সেই রহস্যমানব সাইন ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে জানায় সে ২৫০ বছর ধরে সে বেঁচে আছে এবং সে মীরজাফর কে খুন করেছেন! নিজের পারিবারিক ও কর্মজীবনের ঝামেলায় ব্যস্ত জেলার হতব্যস্ত হয়ে পড়েন তার খোঁজ নিতে!এদিকে কয়েদিরা রহস্যমানব কে পীর,বাবা মানতে শুরু করেছেন! একেক কয়েদির একেক রহস্য, রক্ষীদের মৃত্যু, জেলারের কর্মকান্ড ও ১৯৭১! সবমিলিয়ে দারুণ এক গল্পের পসরা বুনেছেন শাওকী, যার খোলাসা দ্বিতীয় পার্টে হবে! 

কারাগার সিরিজটি তার অভিনয় গুনে সমৃদ্ধ। নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের দেখা যেমন মিলেছে তেমনি অনেকেই প্রথমবারের মতন ওটিটিতে পদার্পণ করেছেন। পুরো সিরিজে রহস্যমানব সেজে রহস্যময় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। ৭ পর্বের সিরিজটিতে কোনো সংলাপ ছাড়া শুধুমাত্র এক্সপ্রেশন দিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। হাঁটাচলা, মুখ চোখের চাহনি, অদ্ভুতুড়ে ভাবে কিছু আঁকাআকি করা, পুরো সিরিজ জুড়ে চঞ্চল চৌধুরী তার অভিনয়ে বেঁধে রেখেছেন। জেলার চরিত্রে ইন্তেখাব দিনারের অতুলনীয় পারফরম্যান্স কাজটিকে চোখের আরাম দিয়েছে। তেমনি, সহকারী জেলার রূপে একে আজাদ সেতু একফোঁটা চোখের পলক ফেলতে দেননি তার অভিনয় গুনে। ভালো লেগেছে অনেকদিন পর এফ এস নাইম কে দেখে। ওটিটিতে প্রথমবারেই দারুণ করেছেন তিনি। বিজরী বরকতউল্লাহ, ফারহানা হামিদ, তাসনিয়া ফারিন বেশ সুন্দর যার যার চরিত্রে। তবে, স্বল্প সময়ে দারুণ করেছেন আফজাল হোসেন। প্রধাণ জল্লাদের ভূমিকায় তার অভিনয় অনেকসময় পিলে চমকে দেবার মতন। ভালো লেগেছে শেখ পার্থ কে, তাকে নিয়ে অনেক বলার। সেন্টু ও পাভেল জামানের কৌতুকপূর্ণ দৃশ্যটা বেশ ভালো লেগেছে। 

কারাগার ভালো লাগার অনেক কারনের মধ্যে এর সিনেমাটোগ্রাফি ও মিউজিক বেশ মনে ধরেছে। বরকত হোসেন পলাশের চিত্রগ্রহণে কারাগারের আলো-আঁধারির খেলা, মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতে পেরেছে। রুসলান রেহমান এর আবহ সংগীত কাজটিকে সহজতর করেছে কানের জন্য। সালেহ সোবহান অনীম এর সম্পাদনা চমৎকার এবং প্রশংসা করতে হয় ফারজানা সানের কস্টিউম। নেয়ামত উল্লাহ মাসুমের চিত্রনাট্য দারুণ কিন্তু মনে রাখার মতন সংলাপ নেই পার্ট ওয়ানে, যা পার্ট টু'তে থাকবে বলেই বিশ্বাস। 

কারাগার পার্ট ওয়ানে যে প্রশ্ন গুলো দর্শকমনে তুলে ধরা হয়েছে, পার্ট টু'তে সব খোলাসা করা হবে এবং তা বেশ ভালোভাবেই করা হবে বিশ্বাস। কারাগার সিরিজটি যে প্রচুর রিসার্চ ও যত্নে নির্মিত তা কাজটি দেখলেই বোঝা যায়। পার্ট টু যদি ঠিকমতো ক্লিক করে তবে অবশ্যই বাংলাদেশের এখন অব্দি সেরা সিরিজ হবে "কারাগার"। আপাতত, খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্ব আসুক* নো স্পয়লার *

কারাগার : প্রস্তুতিপর্ব

******************

সৈয়দ আহমেদ শাওকী-র প্রথম যে কাজটি দেখে মুগ্ধতা কাজ করেছিল সেটি ছিল 'কথা হবে তো' নাটক। নাটকটি এতই ওয়েল মেইড ছিল যে একটা সাহিত্য সৃষ্টির মতো অনুভূতি কাজ করেছিল। শাওকী-র কাজের ধরন দেখে যেটা মনে হয় অনেক স্টাডি করে আর্টটাকে টোটালি ধারণ করেই কাজ করে। 'কারাগার' সিরিজের প্রথম পর্বও স্টাডির ফসল। দর্শক ইতিমধ্যে এটিকে এখন অব্দি সেরা সিরিজ বলতে শুরু করেছে। 

ব্যক্তিগতভাবে এ সিরিজটিকে সেরা বলব কিনা সেটা জরুরি না। তার থেকে জরুরি মনে হয়েছে এটা সেরা সিরিজ কিনা তার যৌক্তিক কারণ খোঁজাটা। এমন কুল মেকিং কি এর আগে হয়নি কোনো সিরিজে? 'তকদীর, কাইজার'-ও কিন্তু এমনই মেকিং-এর ছিল এবং প্রশংসিত হয়েছে। এখন কথা হচ্ছে 'কারাগার' কেন এগুলোর থেকে এগিয়ে? 

'কারাগার' সিজন ১ দেখার পর যা মনে হয়েছে এর পুরোটাই ছিল একটা প্রস্তুতিপর্ব। দ্বিতীয় সিজনের প্রস্তুতিপর্ব। প্রস্তুতিকে জানান দিতেই নির্মাতা যে রহস্যের ফাঁদ পেতেছেন সেটাই এর প্রধান উপজীব্য। 

চঞ্চল চৌধুরী হুট করে কীভাবে একটা অন্ধকার সেলে ঢুকে পড়ল, তার সাথে জেল কর্তৃপক্ষের আচরণের কি কারণ, চঞ্চলের ভাষার প্যাটার্ন কি, হুট করে তাসনিয়া ফারিন এসে চঞ্চলের সাথে কীভাবে কথা বলছে, ২৫০ বছর জেলে আটকে আছে এর কি যৌক্তিকতা, আফজাল হোসেনের 'তুফান আসতাছে' ডায়লগের নিগূঢ় রহস্য কী এসব প্রশ্ন রেখেই কিন্তু প্রথম সিজন সমাপ্ত হয়েছে। এখন এই যে অসমাপ্ত একটা অবস্থা যেটি দ্বিতীয় সিজনের জন্য অপেক্ষা করাচ্ছে উত্তরের জন্য ঠিক এটার জন্যই আরো সময় নিতে হবে। তারপর বলা যাবে 'কারাগার' দেশে এখন অব্দি নির্মিত হওয়া সেরা সিরিজ কিনা। আপাতত যারা অনুমান করছেন সেরা তাদেরটাও উড়িয়ে দিচ্ছি না। আপাতত অপেক্ষাটা করছি আর কি।

'কারাগার' এর প্রস্তুতিপর্বের পরিণতি দ্বিতীয় সিজনে কতটা পূর্ণতা পায় সে পর্যন্ত কথাসবার মতামত একরকম না। সবার অনুভূতি, চিন্তাধারা ভিন্ন। একই জিনিস সবার ভালো না লাগাই স্বাভাবিক। আপনার ভালো লেগেছে বলে সেটা যে সবার ভালো লাগতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। তাই সবার ব্যক্তিগত মতামতকে যথাযথ সম্মান প্রদান করা উচিৎ।

কারাগার  পার্ট ১ (২০২২)  - Karagar Part 1 2022 | Chanchal Chowdhury Tasnia Farin | Hoichoi


#সিরিজ_রিভিউ

স্পয়লার নেই

Series : Karagar Part : 1 (2022)

Genre : Fantasy, Mystery, Thriller

Language of Origin : Bangla

Director : Syed Ahmed Shwki

Cast : Chanchal Chowdhury , Intekhab Dinar, Tasnia Farin , FS Nayeem, Afzal Hossain

Total Episodes : 07

Runtime : 3 Hours 7 Minutes

Releasing Platform : Hoichoi 

Current Imdb Rating : 8.7/10 (592i)

Personal Rating : 7.5/10

সত্যি কথা বলতে চঞ্চল চৌধুরীর বেশ বড়সড় ফ্যান হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশা পূরণ করতে না পেরে কিছুটা হতাশ হলাম। আরেকটু বেশি আশা ছিলো এই ওয়েব সিরিজ থেকে।

প্লটঃ এক রাতে কারাগারের কয়েদীদের গোনার সময় ৩২৫ জন কয়েদীর পরিবর্তে সেখানে ৩২৬ জন কয়েদী পাওয়া যায়। যে একজন বাড়তি কয়েদীকে পাওয়া যায়, সে পড়ে ছিল ৫০ বছর ধরে বন্ধ এক সেলের ভিতর। হটাৎ এই বন্ধ সেলের ভিতর সে কিভাবে এলো, কেন এলো, সে আসলে কে এগুলো উদঘাটন করা নিয়েই এগিয়ে যায় গল্প।

গল্পতে নতুনত্ব ছিলো। মাঝে মাঝে কিছু টুইস্ট রাখা হয়েছে, সেগুলো অবশ্য কিছুটা প্রেডিক্টেবল। তবে শেষের টুইস্টটা পুরোপুরি আনপ্রেডিক্টেবল ছিলো। গল্প ছিল ঠিকঠাক। কিছুটা সমস্যাজনক লেগেছে স্ক্রিনপ্লে। মাঝে মাঝে কাহিনী সাজাতে গিয়ে কোনো কোনো জায়গায় অতিরিক্ত মসলা দিতে স্ক্রিনপ্লে স্লো হয়ে গেছে। মাঝের দিকটা খুবই বিরক্তিকর লেগেছে। তবে সেই বিরক্তিকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে কিছু কিছু টুইস্ট, যেগুলো গল্পের গতিকে ধরে রেখেছে। তবে আমার মনে হয়, কিছু বাড়তি জিনিস বাদ দিয়ে ইচ্ছা করলে দুই পার্টকে এক পার্টের ভিতর এনে আরোও ভালো কিছু তৈরি করা যেতো।

অভিনয়ঃ অভিনয় নিয়ে কোনো কথা বলার নেই আসলে। অভিনয়ের দিক থেকে এই সিরিজকে চোখ বন্ধ করে ১০০/১০০ দেওয়া যেতেই পারে। গল্পটা আবর্তিত হয়েছে চঞ্চল চৌধুরীকে ঘিরে। তার অভিনয় ছিলো দেখার মতো। কোনো সংলাপ ছাড়াই তিনি যে এক্সপ্রেশন এবং চলাফেরার ভঙ্গি দেখিয়েছেন, তা এককথায় অনবদ্য। অন্য সবাই ছিলেন ঠিকঠাক।

এছাড়া অন্যসব বিষয় নিয়ে কোনো অভিযোগ দেওয়ার মতো নেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখলে এটা এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের একটা সেরা ওয়েব সিরিজ। পার্ট ২ এর জন্য যে খুব অপেক্ষায় আছি না নয়, তবে বের হলে অবশ্যই দেখবো।

অনেকে এটিকে মাস্টারপিস বলছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি। আমার মতে, কারাগার মাস্টারপিস না হলেও দারুণ এবং উপভোগ্য একটিসৃষ্টির সেরা জীব হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টির সবচেয়ে হিংস্র জীব হওয়ার রেকর্ডও মানুষের দখলে সেটা আপনি Mouse [ 마우스 ; Mauseu ] দেখার পরেই খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারবেন!

◑আপনার প্রেডিকশনকে বারবার মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে,

প্রত্যেকটা এপিসোডে একের পর এক টুইস্ট দিয়ে যাবে এই

ড্রামা সিরিজ! 

সবাই এখন হাউজ অব দ্য ড্রাগন, কারাগার নিয়ে পোস্ট করছে। 

আমি নাহয় স্রোতের বিপরীতে গিয়ে আমার ফেভারিট জনরার মাস্টারপিস একটি ড্রামা মাউস নিয়ে একটু কথা বলে যাই।

দূঃখিত একটু না, বেশিই বলবো!

📺Mouse [ 마우스 ; Mauseu ]

® ★★★★★

◑এখন পর্যন্ত আমার দেখা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরার যেকোনো মুভি সিরিজকে টপকে লিস্টে একদম টপ লেভেলে থাকবে মিস্ট্রি,থ্রিলার,সাইকোলজিক্যাল জনরার অসাধারণ এই কোরিয়ান ড্রামা সিরিজ Mouse [ 마우스 ; Mauseu ]

রিমাইন্ডারঃ- আমি এই জনরার অন্য কোনো মুভি অথবা সিরিজকে ছোট করছি না!

Read : Vikram Vedha (2022)

#No_spoiler

◑মুভি সিরিজ জগতে আমার সবথেকে পচ্ছন্দের জনরা হলো থ্রিলার। তার মধ্যে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের প্রতি বরাবরই আমার ঝোঁকটা তুলনামূলকভাবে বেশি।

সবসময়ই জানতে চেয়েছি–Dr. Harold Shipman,

Ted Bundy, Charles Manson, The Zodiac Killer সহ অন্যরা কেন?... [ অফটপিক, রিভিউয়ের শেষের দিকে ]

আচ্ছা প্রথমে ড্রামাটি নিয়ে কিছু কথা বলা যাক!

◑থ্রিলিং কাকে বলে সেটা Mouse: [ 마우스 ; Mauseu ] আপনাকে খুব ভালোভাবে শিখিয়ে দিবে। এমনসব প্লট টুইস্ট পাবেন যার জন্য বসা থেকে উঠে দাড়াতে বাধ্য হবেন, হা করে থাকবেন এটা শিওর!

ড্রামাটি দেখার সময় আপনি হঠাৎ অনুভব করবেন যে

আপনি ডিটেকটিভদের মতো আচরণ করছেন! কারন,

নিজে নিজে অনেক থিওরি প্রেডিক্ট করবেন।

কিন্তু, আপনার প্রেডিকশনকে বারবার মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে, প্রত্যেকটা এপিসোডে একের পর এক টুইস্ট দিয়ে যাবে এই ড্রামা সিরিজ! স্টোরি বিল্ডআপ করেই, একের পর এক জায়েন্ট প্লট টুইস্ট দিয়ে রোলারকোস্টার রাইডে উঠিয়ে দিবে আপনাকে ডিরেক্টর সাহেব!

গুসবাম্পস হওয়ার মতো বিজিএমই-তো আছেই!

স্টোরিলাইন মোটামুটি ভালোই জটিল ছিলো,

যেহেতু মিস্ট্রি জনরার সিরিজ। পুরোপুরি মনযোগ না থাকলে অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারবেন না। তবে ভয় নেই ডার্কের মতো অতোটাও জটিল না! ড্রামাটির কাস্টিং বেশ মানানসই ছিলো। প্রতিটি ক্যারেক্টার কোনো না কোনোভাবে একে অপরের সাথে এবং মূল কাহিনীর সাথে কানেক্টেড ছিলো।

অভিনয় নিয়ে আর কি বলবো! জু বা-রূম, খো মু-ছি,

সুং ইও-হান, ছই-পিডি, অহ বং-য়ি সহ সকলের পারফরম্যান্স অসাধারণ ছিলো। তবে আমার কাছে জুং বা-রূম এবং খো মু-ছি এদের অভিনয় টপ-নচ মনে হয়েছে। বা-রূম(ওপ্পা) এবং ইও-হান এই দুজন মিলে আপনার মস্তিষ্ককে হাতের ইশারায় রীতিমত নাচিয়ে ছাড়বে। 

(ক্রাইম,অ্যাকশন,মিস্ট্রি,সাইকোলজিক্যাল)-থ্রিলার এইসব জনরার মুভি, সিরিজের টপ-নচ মেকিং সম্পর্কে কোরিয়ানরা কতটা পারদর্শী, সে ব্যাপারে নতুন করে বলার কিছুই নেই। ওদের কমন বৈশিষ্ট্য হলো ভিলেন ক্যারেক্টারের স্টোরি বিল্ডআপের দিকে বেশি ফোকাস করা,যা আমি বেশ উপভোগ করি। যারা থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরা পচ্ছন্দ করেন তারা আজই দেখতে বসে যেতে পারেন। গ্যারান্টি দিচ্ছি হতাশ হবেন না! আমার এমন অবস্থা হয়েছিলো যে রাত ৩টা বাজে, এখন আমার মাস্ট ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু চলমান এপিসোডে এমন টুইস্ট দিয়েছে যা রেখে উঠা সম্ভব না। ভোর ৫টা বেজে গিয়েছিল তারপরেও ঘুম নেই। ততক্ষণ পর্যন্ত দেখেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না এমনি এমনি ঘুমিয়ে পড়েছি! 

Mouse [ 마우스 ; Mauseu ] 📺

No. of episodes: 20..

Runtime:- Roughly 1-1.5 hour per ep. 

        +

2 special episode called MOUSE : The predator

সিরিজটি দেখার সময় আপনি ১৫ নম্বর এপিসোড শেষে ১৬ নম্বরে যাওয়ার আগে মাউস: দ্যি প্রিডেটরের স্পেশাল এপিসোড দুটি মাস্ট দেখে নিবেন। 

থ্যাংকস মি লেটার!

হ্যাপি ওয়াচিং :3


অফটপিক :- মুভি সিরিজ জগতে আমার সবথেকে পচ্ছন্দের জনরা হলো থ্রিলার। তার মধ্যে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের প্রতি বরাবরই আমার ঝোঁকটা তুলনামূলকভাবে বেশি।

সবসময়ই জানতে চেয়েছি–Dr. Harold Shipman,

Ted Bundy, Charles Manson, The Zodiac Killer,

Jeffrey Dahmer, Ed kemper,Jack the Ripper, David Berkowitz, Pedro Lopez,Henley এদের সম্পর্কে। এরা প্রত্যেকেই বাস্তবিক, কোনো ফিকশনাল চরিত্র নয়! Dr. Harold Shipman-এর মোট ভিক্টিম সংখ্যা ছিলো ২৫০, ভাবতে পারেন? আপনি যতই সাহসী এবং শক্ত মনের মানুষ হন Ted Bundy-এর ভায়োলেন্স এবং ভয়াবহ সব মার্ডারগুলো সম্পর্কে জানলে হঠাৎ লো-প্রেশার অনুভব করবেন! না! আমি তাদের প্রশংসা করছি না। আমি এই সাইকো কিলারদের ফ্যানবয়ও না, আমি বড়জোর শার্লকের হোমসের মতো হাই-ফাংশনিক সোশিওপ্যাথ হতে পারি কিন্তু সেটাও আমি না! জাস্ট কিডিং:3

আসলে আমার কৌতুহলী মস্তিষ্ক সবসময়ই জানতে চেয়েছে এদের বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পর্কে। কেন? 

কেন তারা মার্ডারের সময় উত্তেজনা,শান্তি অনুভব করে?

মার্ডারের সময়ই কেন তাদের শরীরে এত্ত ডোপামিন নিঃসরিত হয়? তাদের বিনোদনের কি অন্য কোনো মাধ্যম নেই? মার্ডার কেন তাদের ক্ষেত্রে নেশার মতো কাজ করে?

তাদের চিন্তাধারা এরকম কেন হয়? কিভাবে হয়?

জন্মগতভাবেই কি তারা এরকম? নাকি আমাদের সমাজের ডার্কসাইড প্রভাবক হিসেবে কাজ করে?

এই ব্যাপারে অবশ্য Mouse ড্রামাটিতে একটা থিওরি দেওয়া হয়েছে। আমি এক্সাটলি জানিনা তারা সায়েন্টিফিক নাকি জাস্ট ফিকশনাল থিওরি দিয়েছে। তবে একটা জিনিস খেয়াল করেছি, সাইকোপ্যাথরা মেক্সিমাম-ই ইন্ট্রোভার্ট হয়ে থাকে। তবে তারা সকলেই পরিবেশের সাথে মানানোর জন্য এক্সট্রোভার্ট হওয়ার অভিনয় করে।

যাই হোক, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজতে গিয়েই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার জনরার প্রতি আমি এতটা ইন্টারস্টেড। সাইকোপ্যাথদের সম্পর্কে সবথেকে বেশি ধারনা পেয়েছিলাম MINDHUNTER সিরিজটি দেখে,আপনি এই ব্যাপারে আগ্রহী থাকলে দেখতে পারেন সিরিজটি। যখনই এই জনরার কোনো মুভি সিরিজ পাই।

তখন যেটাই চলমান থাকুক না কেন, তার তোয়াক্কা না করে আগে এই সাইকোদের জানতে বসে পরি। 

অফ টপিকে অনেক কিছু বলে ফেললাম! 

বোরিং হলেন নাকি? বোরিং ফিল করলে যান ভিক্টিম সিলেক্ট করে মার্ডার করে আসেন, বোরিং হলে সাইকোরা ডেস্পা📺Karagar | Genre:-Mystery Thriller 🍒 


                      Little Bit Spoiler 


কারাগারে ৩২৫ জন কয়েদির বদলে ৩২৬ জন কয়েদি পাওয়া গেলো। আবার, ৩২৬ নম্বর কয়েদিকে যে সেলে পাওয়া গেছে ওইটা গত ৫০ বছর যাবৎ বন্ধ। অন্যদিকে সেই কয়েদির দাবী, তিনি ওই সেলে ২৫০ বছর যাবৎ বন্দী....সিরিজ এনাউন্সমেন্টের সময় এই কয়েক লাইন দিয়েই আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া হাইপ উঠারই কথা কারণ এই লাইন গুলা শুনে যে কারোর মনে ডাব্লিউ এইচ কোশ্চেন আসবেই। তার থেকে বড় কথা ডাব্লিউ এইচ কোশ্চেনের উত্তর হ্যাঁ এবং না এর মধ্যে দেওয়া যায় না। তাই এখানে উত্তর দেওয়ার জন্য একটা বিস্তৃত প্লট ডিমান্ড করতেছে। এছাড়া ভালো ক্যারেক্টারাইজেশন, চিত্রনাট্যর আশা করতেছি। এইসবের সাথে যুতসই ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, ডিটেলিং, ক্যারেক্টার কনফ্লিক্ট, ম্যাটাফোরিক ট্রার্ম, সিম্বলিজম বোনাস হিসাবে থাকলে তো কোনো কথাই নাই। যাইহোক মূলত এইসব ডিমান্ড, আশা, বোনাসের জন্যই আগ্রহী ছিলাম.... তো আশাহত নাকি সন্তুষ্ট? তা নিয়ে হয়ে যাক বিস্তর আলোচনা---- 

• যেহেতু জেলখানাকে ঘিরে প্রাইম প্লট এস্টাবলিশ করতেছে সেহেতু প্রডাকশন ভ্যালুর কারিশমা দেখিয়ে ওই আবহ'টা ক্রিয়েট কর‍তে হবে। সহজকথায় যেই পটভূমির মধ্যে গল্প বলবে ওইটা যতটা কনভেন্সিং ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে গল্পও ঠিক ততটা রিয়েলিটির কাছে যাবে। এখানে গল্প উপস্থাপনের জন্য ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারকে বেছে নেওয়া হয়েছে।ব্যাস, একটা যুতসই পটভূমি পেয়ে গেলাম। এইবার চিত্রনাট্য আর ক্যারেক্টারাইজেশনের দিকে আগানো যাক........ 

• দ্বিতীয় এপিসোডের নাম ব্ল্যাক শিপ ছিল। ওই এপিসোডে ঠিক মাঝখান দিয়ে সিন একটা ছিল এমন

--আসলাম রাতে বাইকে চড়ে বাসায় ফিরতেছে, হঠাৎ কালো বর্ণের ভেড়া একটা সাথে তার এক্সিডেন্ট হয়। এপিসোডটার ভিজ্যুয়াল সিম্বোল হিসাবে ভেড়াকে

রিপ্রেজেন্ট করেছে। পরেদিন সকালে মোস্তাক এবং আবুল খায়েরের মধ্যে ওই রাতের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন শেষের দিকে যখন মোস্তাক বলেন- 'আসলাম নাই তো কি হইছে অন্য কাউকে বলেন' তখন খায়ের উত্তর দেন-' ভয়ে কেউ তার গায়ে হাত দিতেছে না'। তখন জিজ্ঞাসু সুরে মোস্তাক বলেন "কেন?" কাট....পরের সিনে তিন পুলিশ সদস্যদের কথোপকথন মাধ্যেমে "কেন" এর উত্তর দেন একই সাথে একে অন্যকে কুসংস্কারের ভুলি ছুটতেছেন আবার ওই সিনের শেষের দিকে একজন বলেন- "তাইলে আসলাম এক্সিডেন্ট করছে কেম্নে, ওই ফারুক তুই কও..ফারুক- 'রাইতে আতকা ভেড়া আইসা বাইকের সামনে পড়ছে'। অন্যজন বলেন- রাইতের বেলায় আবার ভেড়া কোথেকে আসলো। তখন প্রথম জন বলেন- এডাই, উনি মানুষ না। ডায়লগ চলাকালীন

সময় চঞ্চল চৌধুরীকে দেখান...এই তিনটা সিনের ফাইনাল কনক্লুশন হলো- এতক্ষণ ধরে যিনি মিস্টিরিয়াস ব্যাক্তি ছিলেন তার চরিত্রে ব্ল্যাক শিপের সিম্বলিজম ইউজ করেছে। তার ক্যারেক্টারাইজেশনে ব্ল্যাক শিপের বৈশিষ্ট রিফ্লেক্ট করতেছে। ফলে এখন তার গতিবিধি কিছুটা হলেও আঁচ করা যাচ্ছে। শেষ এপিতে ফাদারের বয়ানে তা একদম ক্লিয়ার করে দেয়। একদম শেষে ব্ল্যাক শিপ সিম্বোলিজমকে ইউজ করে যখন পলিটিকাল জনরায় শিপট করে!! জাস্ট বুম! আমি অবাক হয়েছি দেশীয় সিরিজে এত শার্প রাইটিং দেখে, এত পারফেক্ট চিত্রনাট্য দেশীয় কাজে আগে দেখি নাই। 

• ক্যারেক্টারাইজেশন নিয়ে আলাদাভাবে বলতে গেলে বড় একটা রচনা লেখা যাবে। কারণ এখানে অলমোস্ট সব চরিত্রে ক্যারেক্টার আর্ক ডায়নামিক এবং একই সাথে গ্রে অ্যাপোর্চ রেখেছে। তবে সবার থেকে মোস্তাক চরিত্রকে এগিয়ে রাখবো। তার চরিত্রায়ন এবং অভিনয় দুটোই দারুণ লেগেছে। চঞ্চলকে নিয়ে পরের পার্টের রিভিউতে মন্তব্য করবো। বাকিরাও ভালো তবে তাসনিয়া ফারিনকে নিয়ে আমার মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

• ডিটেলিং-- শুরুতেই চঞ্চল চৌধুরীর মেকআপে যে ডিটেলস ক্যারি করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। এছাড়া প্রথম এপিসোডে কারাগার বন্দীদের যখন গণনা করে তখন কিছুটা ইয়েলো ভাইব এবং ব্লু কালার প্লেট ইউজ করে যা ইনসিকিউরিটি এবং আইসোলেশনকে রিপ্রেজেন্ট করতেছে। আবার মোস্তাক যখন খাঁচায় বন্দি পাখিদের খাওয়া দিতে যায় ওইখানে কালার প্লেট পুরাটাই ব্লু ছিল ওইটা আইসোলেশন অর্থাৎ পাখির বন্দিদশাকে রিপ্রেজেন্ট করতেছে। একই ব্যাপারটা ফারিনের মা যখন হস্পিটালে থাকেন তখনও দেখা যায়। এইসব ডিটেলিং সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। এইসব খুঁটিনাটি বিষয় কারাগারকে পারফেক্ট সিরিজে পরিণত করেছে। তবে আলোচনার শেষ নেই, আরো অনেক বিষয়বস্তু আছে তা দ্বিতীয় পার্টের জসিরিজঃ কারাগার (পার্ট-১)

প্ল্যাটফর্মঃ হইচই 

 ## নো স্পয়লার ##

।৷ কারাগার বিশ্লেষণ ।। 

টান টান উত্তেজনা সম্পুর্ন কোনো থ্রিলার সিরিজ নয় এটি। তবুও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সরানোর উপায় উপায় নাই একটুও। আপনি থ্রিলার সিরিজ হিসেবে "কারাগার" দেখতে বসলে হয়তো গতানুগতিক ধারার থ্রিল টা মিস করতে পারেন কারণ এটা অনেক বেশি মিস্ট্রি ড্রামা, মিস্ট্রি থ্রিলার নয়। 

স্পয়লার ছাড়া গল্প সম্পর্কে বলতে গেলে এতটুকু বলা যায় গল্প টা একদম ইউনিক এবং আন -প্রেডিক্টেবল। পার্ট ১ যেখান থেকে শেষ হয়েছে তারপরে কি হতে চলছে সেটা প্রেডিক্ট করাও প্রায় অসম্ভব আর মিস্ট্রি ড্রামা সিরিজের বৈশিষ্ট্য তো এমন ই হওয়া উচিত। 

সিরিজের চরিত্রে গুলোর কথা বলতে গেলে- প্রত্যেক চরিত্র ই যেনো রহস্যে ঘেরা,তাদের পিছনে লুকিয়ে আছে অনেক অজানা কাহানী। আর এই রহস্যের আবহ সময় মতো ধরে রাখায় মিস্ট্রি কোনো গল্পের প্রধান হাতিয়ার। এই জায়গায়তে "কারাগার"এর পরিচালক " সৈয়দ আহমেদ শাওকী" সফল। তিনি সকল রহস্যের সমাধান তুলে রেখেছেন পার্ট -২ এর জন্যে। আর এজন্যেই আমার মতো দর্শকদের আগ্রহ পার্ট-২ ঘিরে অনেক বেশি থাকবে। এখন দেখার বিষয় পার্ট -১ এর জোট পাকানো সব প্রশ্ন গুলোর উত্তর তিনি কিভাবে দেন এবং এমন অসাধারণ শুরুর পর সিরিজের শেষ টা কেমন ভাবে করেন।

সিরিজে সবার অভিনয় ছিল দুর্দান্ত। রহস্যমানব চরিত্রে "চঞ্চল চৌধুরী "কোনো ডায়লগ ছাড়া শুধু তার অঙ্গভঙ্গি দিয়ে যে অভিনয় করেছেন এক কথায় অসাধারণ। জেলার চরিত্র "ইন্তেখাব দিনার"একদম পারফেক্ট ছিলেন। "মাহা" চরিত্রের জন্যে যে শুন্যেতা বা বিষণ্ণতার প্রয়োজন ছিল তা "তাসনিয়া ফারিণ" খুব সুন্দর ভাবে শেষ পর্যন্ত ক্যারি করেছেন। সিরিজে হ্যাং ম্যান খ্যাত "আফজাল হোসেন" এর স্ক্রিন টাইম কম থাকলেও তার রহস্যে ঘেরা চাহনি আর কন্ঠ দিয়ে সিরিজটাকে তিনি আরো বেশি রহস্যময় করে তুলেছেন। ডিবি পুলিশ চরিত্রে "এফ এস নাইম" ঠিকঠাক ছিলেন।

মেকিং ও টেকনিক্যাল দিক দিয়েও "কারাগার " সিরিজটি চমৎকার। ক্যামেরা ওয়ার্ক,লাইটিং, সিনেমাটোগ্রাফি, সাউন্ড ডিজাইনিং সব কিছুই ছিল গল্পের কাহিনী অনুযায়ী পারফেক্ট। লোকেশান এবং কস্টিউম ও আলাদা ভাবে নজর কেড়েছে।

নেগেটিভ দিক বলতে গেলে সিরিজের স্ক্রিনপ্লে কিছু টা স্লো এবং পার্ট -১ এ এক সাথে অনেকগুলো প্রশ্ন জোট পাকিয়ে রেখে শেষ হয়ে যাওয়া দর্শকের অস্তিত্বর কারণ হতে পারে।

সব কিছু মিলিয়ে " কারাগার " অলমোস্ট পারফেক্ট একটা মিস্ট্রি ড্রামা সিরিজ। 

।। হ্যাপি ওয়াচিং ।। 

পার্সোসত্যি অসাধারণ এমন মনোমুগ্ধকর বাংলা ওয়েব সিরিজ এর আগে হইচই এ রিলিজ হয়নি। স্ক্রিপ্ট যেমন দুর্দান্ত তেমনি বিষয়বস্তুুও যাস্ট মাইন্ড ব্লোয়িং ❣

________________________________________________


ওয়েব সিরিজ : কারাগার পার্ট ১ ( ২০২২ ) 


পরিচালক : সায়েদ আহমদ সাওকী।


অভিনয় : চঞ্চল চৌধুরী, তাসনিয়া ফারিন, ইফতেখার 

                দিনার ও আফজাল হোসেন প্রমুখ।


জনরা : মিস্ট্রি থ্রিলার ড্রামা।

________________________________________________


নো_স্পয়লার!

৫০ বছর ধরে বন্ধ আকাশনগর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১৪৫ নম্বর কক্ষে একজন বন্দী উপস্থিত হলে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবং সে দাবি করে যে মীরজাফর কে হত্যার দায়ে সে ২৫০ বছর ধরে জেলে বন্দি এবং তার উপরে সে বোবা।

এই রহস্যময় মানুষটি কে এবং তার ভিতরে কী কী রহস্য লুকিয়ে আছে? কি করে সে ২৫০ বছর ধরে জেলে বন্দি যেখানে সাধারণ মানুষের আয়ু সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০? কিভাবে সে এই আকাশনগর জেলে এলো? এবং এমন এক সেলে তাকে পাওয়া গেছে যে সেল দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত বন্ধ। এবং এতো রহস্যর সত্যি কারণ কি? এসমস্ত রহস্যময় প্রশ্নের উত্তর জানতে এখনি এই সিরিজ দেখতে বসুন। 

এই সিরিজ দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি সত্যি এর আগে হইচই এ মহানগর, তকদীর সহ অসংখ্য বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখেছি কিন্তু কারাগারের মতো এত অসাধারণ সিরিজ দেখিনি। কারাগার সিরিজ প্রতিটি সিকুয়েন্স এখনো আমার চোখে লেগে আছে। অনন্য ধারণা, অসাধারণ স্ক্রীনিং এই ধরনের বাংলা ওয়েব কন্টেন্ট আগে কখনো দেখিনি। এই বিষয়বস্তু সমগ্র বিশ্বের কাছে বাংলা বিষয়বস্তুর প্রতিনিধিত্ব করবে এবং নির্মাতার সাওকীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা বাড়াবে। এই সিরিজের সিনেমাটোগ্রাফি থেকে শুরু করে ব‍্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, কালার গ্রাউন্ডিং, স্ক্রিনপ্লে, সবই ছিল অনবদ্য যা আলাদাভাবে এই সিরিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।

এবার আসি অভিনয় প্রসঙ্গে, চঞ্চল চৌধুরী আমাদের গর্ব আমার মতে সে অভিনয়ের প্রফেসর তার স্ক্রিপ্ট চয়েজ অনেক স্মার্ট যা তার প্রতিটা কাজেই প্রমাণ করে দেয়। তাই চঞ্চল চৌধুরীর তুলনা শুধুমাত্র চঞ্চল চৌধুরী নিজে। এই সিরিজের রহস্যময় বোবা কারাবন্দি চরিত্রে মিশে গিয়ে সে যেই অভিনয় করেছে ভাইরে ভাই তা যাস্ট আগুন। চঞ্চল চৌধুরীর সাইন লেঙ্গুয়েজে কথা বলার সময় হাত ও চোখের এক্সপ্রেশন স্টেপ ভাই স্টেপ অভিনয়ে যেন প্রতিটা পর্বে থ্রিল ও উত্তেজনা পূর্ণভাবে দ্বিগুণ করে দিয়েছে সেইসাথে অন‍্যসব চরিত্রে তাসনিয়া ফারিন, ইফতেখার দিনার, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় সহ সবাই তাদের সেরাটা দিয়ে অভিনয় করেছে যা সবসময় স্ক্রিনে চোখ আটকে রাখতে বাধ্য করেছে।

তাই এখন পযর্ন্ত যে সমস্ত সিরিজ প্রেমীরা এখনো কারাগার দেখননি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো সময় করে দ্রুত সিরিজটি দেখেনিন। আমি হলফ করে বলতে পারি আপনি এর আগে এরকম দুর্দান্ত কনস্পেটে কোনো বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখেননি। মিস্ট্রি থ্রিলার প্রেমী হলে ও চঞ্চল চৌধুরীর অনুরাগী হলে তো মাস্টওয়াচ।

আইএমডিবি রেটিং : ৮.৭ / ১০

ব‍্যাক্তিগত রেটিং : ৯ / ১০

হ‍্যাপি ওয়াসিরিজ -কারাগার

পার্সোনাল রেটিং - ৯/১০


#স্পয়লার এলার্ট


কি দারুন অসাধারণ একটা সিরিজ দেখলাম। চঞ্চল চৌধুরী ,তাসনিয়া ফারিন, ইফতেখার দিনার, আফজাল হোসেন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় সহ আরো অনেকে মিলে পুরা অসাধারণ একটা সিরিজ উপহার দিলো আমাদের, এক কথায় সিরিজটা অসাধারণ লেগেছে।


পুরো এপিসোডেই চঞ্চল বোবা চরিত্রে আকর্ষনীয় অসাধারণ করেছেন, সত্যি বলতে উনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে এমন এক পর্যায়ে নিয়েছেন যে, যে কোন চরিত্রেই উনাকে পারফেক্ট মনে হয়। এছাড়া পার্সোনালি আমার কাছে তাসনিয়া ফারিনের অভিনয় যথেষ্ট ভালো লেগেছে, জেলারের সাথে অ্যাংরি রিয়েক্টে ফারিন যেভাবে কথা বলেছেন সেটা দেখতে বেশ ভালো লেগেছে। অপরদিকে জেলারের অভিনয়ও বেশ পরিপাটি মনে হয়েছে।


সময়ের সাথে সাথে সিরিজে থ্রিল বেড়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বেকগ্রাউন্ড মিউজিক আরেকটু আকর্ষনীয় হলে আরো ভালো হতো।


সিরিজে আফজাল হোসেন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় কোথা থেকে এলেন এবং জেলারের ছেলে কোন কারণে জেলে, বোরখাওয়ালী টা কে, তাসনিয়া ফারিণের সাথে চঞ্চলের কি সম্পর্ক এসব প্রশ্ন এদের ভূমিকা কি এসব দ্বিতীয় পার্ট না দেখা অবধি বুঝা অসম্ভব। সিরিজ শেষ হওয়ার আগ মূহুর্তে চঞ্চল কথা বলেছেন আর এতে সিরিজের উন্মাদনা দর্শকের কাছে আরো বেশি জমিয়ে তুলেছে, পরিবর্তিতে কি হবে তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।


সিরিজ শুরু হওয়া থেকে শেষ না হওয়া অবধি ১ মিনিটের জন্যও এদিক সেদিক তাঁকাই নি, কখন কি হবে এটা দেখার জন্য পুরো মুখিয়ে ছিলাম। সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, আশা করি খুব দ্রুত কারাগার ২ দেখতে পাবো। অশেষ ধন্যবাদ, পরিচালক শাওকী, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী থেকে অভি

𝐑𝐄𝐕𝐈𝐄𝐖 

KARAGAR [ 2022 ] 

Imdb : ★ 8.8 | 10

Personal : Let's discuss :


NO SPOILER 🎬


• আপনি যদি অনুসরণ করে থাকেন

চঞ্চল চৌধুরীর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, এবং তাকদীর দেখার সুযোগ হয়েছে, যেখানে তিনি সৈয়দ আহমেদ শাওকির সাথে কাজ করেছেন, তাহলে আপনি সম্ভবত জানেন যে তারা একসাথে কী জাদু তৈরি করতে পারে। কারাগারে, সেই জাদুটি এমন একটি কাস্টের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের দ্বারা প্রশস্ত করা হয়েছে যা সাম্প্রতিক ওয়েব সিরিজের ইতিহাসে কিছু সেরা পারফরম্যান্স বের করার জন্য পরিচালক দ্বারা নিপুণভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। এমন একটি প্লট যা আপনার সমস্ত মনোযোগের প্রয়োজন (কারণ সামান্য ইঙ্গিত এবং সংকেত আছে যদি আপনি মনোযোগ না দেন তবে আপনি সহজেই মিস করতে পারেন), কারাগার এমন নিখুঁত গতি খুঁজে পায় যেখানে এটি রহস্যের আভা বজায় রাখে, দর্শকদের একটু ইঙ্গিত দিয়ে উত্যক্ত করে এখানে, সেখানে একটি সামান্য সূত্র. চিত্রগ্রাহক বরকত হোসেন পলাশের ক্যামেরা স্নেহের সাথে আলোর প্যাচগুলিতে স্থির থাকে, অস্পষ্ট পায়ের রূপরেখা, যখন ব্যাকগ্রাউন্ডটি তীক্ষ্ণ ফোকাসে আসে। তিনি এটি বিশেষত এমন দৃশ্যগুলিতে ব্যবহার করেন যেখানে আলোর ভোঁতা রক্তের লাল, মৃত্যুর ফ্যাকাশেতাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, এমন দক্ষতার সাথে যা আনন্দদায়ক। 


• একটি রিফ্রেশিং এবং ভাল-ড্রাফ্ট করা প্লট যা দর্শকদেরকে সিরিজের মাধ্যমে প্রবর্তিত বিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে, নিয়ামতুল্লাহ মাসুমের গল্পটি প্লট টুইস্ট এবং সাবটেক্সট দিয়ে পরিপূর্ণ, যা এখনও অকথিত গল্পগুলির ইঙ্গিত দেয়। এটি দর্শকদের বিভিন্ন জীবনের গল্প সম্পর্কে শেখার জন্য বিনিয়োগ করে রাখে। এবং প্লট এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এই গল্পগুলির ছিনতাই এবং বিটগুলি ধীরে ধীরে যুক্ত হতে শুরু করে। চঞ্চল চৌধুরীকে একটি প্রায় অসম্ভব কাজ সম্পাদন করা এবং সম্ভবত তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সূক্ষ্ম পারফরম্যান্সের মধ্যে একটি পরিবেশন করা দেখার এটি একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। ইন্তেখাব দিনারের সাথে এফএস নাঈমের ক্ষোভ এবং সহজ বন্ধুত্ব বেশ স্বাভাবিক এবং সম্পর্কযুক্ত। জেলর হিসেবে দিনার মিশ্র অনুভূতি নিয়ে একজনকে ছেড়ে চলে যাবেন, এটাই সম্ভবত পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে, সময়ে সময়ে, তিনি শ্রোতাদের ছুঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন, যেখানে ক্লু ঢালা শুরু হওয়ার সাথে সাথে কিছু বিন্দু সংযুক্ত করার জন্য তাদের তৈরি করা হয়। শব্দগুলি এই থ্রিলারের মেজাজকে বাড়িয়ে তোলে, ক্রিকেটের চিপ থেকে শুরু করে প্লেট মারার শব্দ পর্যন্ত। অনেক জানালার বার। এটি একটি অতিরিক্ত, গুরুত্বপূর্ণ ট্রপ হিসাবে ব্যবহৃত হয় যা দর্শকদের শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে সহায়তা করে। সিরিজটি একজনকে বিভ্রান্ত করে এবং আরও জানতে চায়, এবং সেখানেই পরিচালকের সাফল্য নিহিত। তিনি একটি খুব প্রতিশ্রুতিশীল সিরিজের একটি দুর্দান্ত শুরু নিশ্চিত করেছেন। 

Ek Deewana Tha (2012)


In-depth Analysis :

Direction: 4.0/5 

Dialogues: 4.0/5 

Screenplay: 4.0/5 

Music: 4.0/5  

Visual appeal: 4.0/5


[ বিঃদ্র অনেকেই বলতেছে ' গল্প নাকি স্লো ' এটা আপনাদের ব্যাক্তিগত অভিমত ' আমি সম্মান করি!! কিন্তু গল্পের তাগিদে হাল্কা স্লো হওয়া দরকার ছিলো ' যদিও আমার কাছে স্লো লাগেনি ] 

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.